নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে একটি সড়কে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধের
উদ্যোগকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় নারীসহ সাতজন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের জৈনপুর গ্রামে এ ঘটনা
ঘটে।
আহতরা হলেন—মাহমুদুল ইসলাম শুভ, মায়মুনা আক্তার, পারুল আক্তার, আরাফাত মিয়া, মাহমুদা আক্তার, মুজাহিদ হোসেন ও রাব্বী মিয়া।
তাদের স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া
হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, জৈনপুর গ্রামের সড়কটি স্থানীয়
সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে নির্মিত। সড়কটি মূলত হালকা যান চলাচলের
উপযোগী হলেও দীর্ঘদিন ধরে মেঘনা পাল্প অ্যান্ড পেপার লিমিটেডের ভারী যানবাহন চলাচল
করছে। এতে সড়কের বিভিন্ন অংশ দেবে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে গত মে মাসে স্থানীয় বাসিন্দারা গণস্বাক্ষর সংগ্রহ
করে সংসদ সদস্য,
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা
প্রকৌশলী ও থানায় লিখিত আবেদন করেন। পরে সড়কটি রক্ষায় ভারী যান চলাচল বন্ধের
উদ্যোগ নেন তারা।
আহতদের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার দুপুরে কোম্পানিতে যাওয়ার সময়
সিমেন্টবোঝাই একটি ট্রাক স্থানীয়রা আটকে দেন। পরে খবর পেয়ে কোম্পানির ঠিকাদার ও
পিরোজপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীরের ভাই আবু সাঈদের নেতৃত্বে ১০-১৫
জন সেখানে উপস্থিত হয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। এ সময় রামদা, লাঠি ও লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
আহত মাহমুদুল ইসলাম শুভ বলেন, ভারী যান চলাচলের কারণে সড়কটির
বিভিন্ন অংশ ভেঙে ও দেবে গেছে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা না
হওয়ায় স্থানীয়রা ভারী যান চলাচল বন্ধের উদ্যোগ নেন। এ কারণেই তাদের ওপর হামলা
চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
শুভর অভিযোগ, হামলার পর তাদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি
কোম্পানির লোকজন দিয়ে গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে মামলা করে হয়রানি করারও হুমকি দেওয়া হয়।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আবু সাঈদ। তার দাবি, কোম্পানিতে
সিমেন্ট নেওয়ার সময় চাঁদা দাবিতে ট্রাক আটকে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে সেখানে গেলে শুভ ও
তার লোকজন তাদের ওপর হামলা করেন। এতে তিনি ও তার ভাগিনা আহত হয়েছেন বলে জানান
তিনি।
ঘটনার পর আহত শুভর বাবা মহিউদ্দিন বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় একটি
লিখিত অভিযোগ করেছেন।
সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, হামলার
ঘটনায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত বলেন, হামলার বিষয়টি তার জানা নেই।
ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। তবে সড়কে ভারী যানবাহন
চলাচলের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন