ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বাসভাড়া নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে
দীর্ঘ বৈঠকের পরও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এর মধ্যেই পরদিন মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর)
উৎসব ও বন্ধন পরিবহনের বাসে যাত্রীদের কাছ থেকে ৬০ টাকা করে ভাড়া আদায় করতে দেখা
গেছে। ফলে ভাড়া নিয়ে চলমান বিরোধের কোনো তাৎক্ষণিক সমাধান হয়নি।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা
পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে প্রশাসন, বাস
মালিক, শিক্ষার্থী ও যাত্রী প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক হয়।
চার ঘণ্টার আলোচনায় বিভিন্ন প্রস্তাব উঠলেও শেষ পর্যন্ত কোনো ভাড়াই চূড়ান্ত হয়নি।
বৈঠকে বাস মালিকদের পক্ষ থেকে শুরুতে সরকারি
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ভাড়া নেওয়ার কথা বলা হলেও আলোচনার একপর্যায়ে সাধারণ যাত্রীর
জন্য ৫৭ টাকা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ৩৫ টাকা প্রস্তাব করা হয়। পরে সেই অবস্থান
বদলে সাধারণ যাত্রীর ভাড়া ৬০ টাকা রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের ভাড়া ৩৫
টাকা রাখার দাবিতেও মালিকপক্ষ অনড় থাকে।
অন্যদিকে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা হাফপাস ৩০ টাকা করার
দাবি জানান। যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ ফোরামের পক্ষ থেকে সাধারণ যাত্রীর ভাড়া ৫৫ টাকা
রাখার দাবি জানানো হয়। সমঝোতার লক্ষ্যে ৫৭ ও ৫৮ টাকার মতো মধ্যবর্তী প্রস্তাবও
আলোচনায় আসে।
বৈঠকের একপর্যায়ে বাস মালিকদের প্রতিনিধিরা সভাকক্ষের
বাইরে গিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেন। পরে তারা ফিরে এসে নতুন প্রস্তাব দেন। এ
নিয়ে আবারও আলোচনা ও তর্ক-বিতর্ক শুরু হলে তারা দ্বিতীয় দফায় সভাকক্ষ ত্যাগ করেন।
এরপর আর বৈঠকে ফেরেননি তারা।
বাস মালিকদের প্রতিনিধি মাহবুব হোসেন রতন বলেন, সরকারি
প্রজ্ঞাপনে যে ভাড়া নির্ধারণ করা হবে, তারা সেটিই নেবেন।
এর চেয়ে এক টাকা কম বা বেশি নেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি। নারায়ণগঞ্জের পরিবহন
মালিকেরা দেশের অন্যান্য এলাকার তুলনায় যাত্রীদের বেশি ছাড় দিচ্ছেন বলেও দাবি করেন
তিনি।
বৈঠকে যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ ফোরামের আহ্বায়ক রফিউর
রাব্বি পরিবহন খাতে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাসভাড়া
নির্ধারণের এখতিয়ার বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ)। অতীতে পরিবহন খাতে
চাঁদাবাজির কারণে ভাড়া বাড়ানোর যে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল, সেটিও
আলোচনায় আনেন তিনি।
এ সময় গণসংহতি আন্দোলনের জেলা সমন্বয়কারী তারিকুল
ইসলাম সুজনও পরিবহন খাতে বিভিন্ন সময়ের চাঁদাবাজির অভিযোগের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি
দাবি করেন, অতীতে বাস মালিকদের পক্ষ থেকে পাঠানো একটি চিঠিতে পরিবহন খাতকে বিভিন্ন
প্রভাব থেকে মুক্ত করা গেলে কম ভাড়াতেও লাভ করা সম্ভব বলে উল্লেখ ছিল।
পরে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম
ফয়েজ উদ্দিন উভয় পক্ষকে কিছুটা ছাড় দিয়ে গ্রহণযোগ্য একটি সমাধানে আসার আহ্বান
জানান। তার ভাষ্য,
এমন সিদ্ধান্ত প্রয়োজন যাতে যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে
এবং বাস মালিকেরাও ক্ষতির মুখে না পড়েন।
ইউএনও বলেন, দীর্ঘ আলোচনা হলেও কোনো বিষয়ে
পূর্ণাঙ্গ সমঝোতা হয়নি। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ৩৪ টাকা এবং বাস মালিকদের পক্ষ
থেকে ৩৫ টাকা ভাড়ার প্রস্তাব এসেছে। সাধারণ যাত্রীর ভাড়া নিয়েও একাধিক প্রস্তাব
থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
তবে বৈঠকের পরদিন মঙ্গলবার ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে উৎসব
ও বন্ধন পরিবহনের বাসে ৬০ টাকা করে ভাড়া নেওয়ার চিত্র দেখা যায়। এর আগে গত ২২
সেপ্টেম্বর থেকেই এ দুই পরিবহনের নন-এসি বাসে ৫৫ টাকার পরিবর্তে ৬০ টাকা নেওয়ার
অভিযোগ উঠেছিল।
এদিকে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, বাসভাড়া
যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ এবং হাফপাসের বিষয়টির সমাধান না হলে তারা আন্দোলনে
যাওয়ার কর্মসূচি নিতে পারে। ফলে প্রশাসনের বৈঠকের পরও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে ভাড়া
নিয়ে বিরোধ অব্যাহত রয়েছে।
দ্যা প্রেস নিউজ/এফজে
মন্তব্য করুন