এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে এবারও পদকের আশা পূরণ হলো না বাংলাদেশের। ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে ৬৩ রানে হেরে পদকশূন্য থাকল বাংলাদেশ পুরুষ ক্রিকেট দল। ১৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে মাত্র ১০২ রানেই অলআউট হয়ে যায় লিটন দাসের দল।
এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে পুরুষ দলের জন্য এটি হতাশার ফল। প্রথমবারের মতো
কোনো পদক ছাড়াই দেশে ফিরতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।
নাগোয়ার মাঠে ১৬৬ রানের লক্ষ্য বাংলাদেশের জন্য খুব বড় ছিল না। কিন্তু
ইনিংসের শুরুতেই ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় দলটি। প্রথম দুই ওভারেই দুই ওপেনারকে হারায় বাংলাদেশ।
অধিনায়ক লিটন দাসও রানের খাতা খোলার আগেই বোল্ড হয়ে ফেরেন। গত ম্যাচে মাত্র দুই রান
করা লিটনের ব্যর্থতা আরও বাড়ে ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে।
বাংলাদেশের ব্যাটারদের একের পর এক উইকেট হারানোর মিছিল চলতে থাকে।
দলের চার ব্যাটার কোনো রানই করতে পারেননি। বাজে শটে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে সাজঘরে ফেরেন
অভিজ্ঞ ব্যাটাররাও।
৯ নম্বরে ব্যাট করতে নামা নাসুম আহমেদই শেষ পর্যন্ত দলের সর্বোচ্চ
রান সংগ্রাহক। তিনি করেন ২৬ রান। ইয়াসির আলী রাব্বি ২১ এবং পারভেজ হোসেন ইমন করেন ২০
রান। তবে তাদের ইনিংসও দলকে লড়াইয়ে ফেরানোর জন্য যথেষ্ট হয়নি। ১৭.৩ ওভারে ১০২ রানে
গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।
শ্রীলঙ্কার হয়ে নুয়ান থুসারা, থারিন্দু রত্ননায়েকে, বিজয়াকান্ত বিয়াসকান্ত
ও ওয়ানুজা সাহান দুটি করে উইকেট নেন।
এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশের স্পিন
আক্রমণের সামনে শুরুটা মোটেও ভালো ছিল না তাদের। দুই প্রান্ত থেকেই স্পিন দিয়ে আক্রমণ
শুরু করে বাংলাদেশ। মাত্র চার ওভারের মধ্যেই চার উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে লঙ্কানরা।
পাকিস্তানের বিপক্ষে আগের ম্যাচে সুযোগ না পাওয়া আলিস আল ইসলাম এ ম্যাচে
বল হাতে কার্যকর ছিলেন। প্রথম স্পেলে তিন ওভার বোলিং করে মাত্র ৭ রান দিয়ে একটি উইকেট
নেন তিনি। তার ১৮ বলের মধ্যে ১২টিই ছিল ডট বল।
শেখ মেহেদী হাসানও বল হাতে ভালো করেন। চার ওভারে মাত্র ১৯ রান দিয়ে
দুটি উইকেট তুলে নেন তিনি।
তবে ১৩ ওভারের পর ম্যাচের চিত্র বদলে যায়। বল পুরোনো হয়ে আসায় অধিনায়ক
লিটন দাস ১৪তম ওভারে মুস্তাফিজুর রহমানকে আক্রমণে আনেন। কিন্তু প্রথম ওভারেই ২৫ রান
দিয়ে বসেন অভিজ্ঞ এই পেসার। প্রথম দুই বলেই চার হাঁকান শ্রীলঙ্কার ব্যাটাররা।
এরপর সাহান আরচিগে ও থারিন্দু রত্ননায়েকে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু
করেন। মুস্তাফিজকে আবার আক্রমণে এনে নিয়েও শ্রীলঙ্কার রান আটকে রাখা যায়নি। নিজের দ্বিতীয়
ওভারে ১১ রান দেন তিনি। রিশাদ হোসেনের ওভার থেকেও আসে ২১ রান।১৩ থেকে ১৮ ওভারের মধ্যে
৮৩ রান তুলে নেয় শ্রীলঙ্কা। ফলে দ্রুতই ঘুরে যায় ম্যাচের গতিপথ।
১৮ ওভার শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ছিল ১৪৭ রান। এরপর
মুস্তাফিজ নিজের তৃতীয় ওভারে কিছুটা ছন্দে ফেরেন। ওভারের প্রথম বলেই অর্ধশতক পূর্ণ
করা থারিন্দু রত্ননায়েকেকে ফেরান তিনি। ৩২ বলে ৬৫ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন থারিন্দু।
ওই ওভারে আরও একটি উইকেট নিয়ে মাত্র ৭ রান দেন মুস্তাফিজ। শেষ ওভারে
সাইফ হাসান দুটি উইকেট তুলে নিলে ৯ উইকেটে ১৬৫ রানে থামে শ্রীলঙ্কার ইনিংস।
বাংলাদেশের সামনে তখন ছিল ১৬৬ রানের লক্ষ্য। কিন্তু শুরু থেকেই ব্যাটিং
ব্যর্থতায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারায় বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ১০২ রানে অলআউট হয়ে ৬৩ রানের
পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে লিটন দাসের দল।
ফলে এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে ব্রোঞ্জ পদকও হাতছাড়া হলো বাংলাদেশের।
দ্যা প্রেস নিজ/এসআর
মন্তব্য করুন