নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি ও আবৃত্তিশিল্পী জিয়াউল ইসলাম কাজল এবং সংগঠনটির সদস্য নাট্যকর্মী আতিকুল ইসলাম মুন্নার মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন সাংস্কৃতিক কর্মীরা। একই সঙ্গে বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিতের আহ্বান জানানো হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মনি সুপান্থ। সঞ্চালনায় ছিলেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক দীনা তাজরিন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সংগঠনের উপদেষ্টা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি, উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট প্রদীপ ঘোষ বাবু, সহসভাপতি ধীমান সাহা জুয়েল এবং শিল্পী অমল আকাশ।
বক্তব্যে রফিউর রাব্বি বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-গণআন্দোলনে অংশ নেওয়ার পেছনে দুঃশাসনের অবসান, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের প্রত্যাশা কাজ করেছে। আন্দোলনে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগান উঠলেও বিচারব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন ঘটেনি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে সরকারের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের নেতাকর্মীরা রাজপথে আন্দোলন করেছেন এবং বিভিন্নভাবে নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। জিয়াউল ইসলাম কাজলও এসব আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। ২০২৪ সালের গণ-আন্দোলনের সময় তিনি সংগঠনটির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।
রফিউর রাব্বির ভাষ্য, আইনজীবী হিসেবে কাজল যেকোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর পক্ষে আদালতে আইনি লড়াই চালাতে পারেন। এটি নিজেই কোনো অপরাধ নয়। আদালতে স্লোগান দেওয়ার ঘটনার সঙ্গে কাজলের সম্পৃক্ততা না থাকলে তাঁকে ওই ঘটনায় দায়ী করার ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
আতিকুল ইসলাম মুন্নার প্রসঙ্গে রফিউর রাব্বি বলেন, মুন্না একজন নাট্যকর্মী। সংশ্লিষ্ট ঘটনা বা রাজনীতির সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা না থাকলে তাঁকে কারাগারে আটকে রাখার যৌক্তিকতা নেই বলে তিনি মনে করেন। এ সময় কাজল ও মুন্নার দ্রুত মুক্তির পাশাপাশি বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে রাখার দাবি জানান তিনি।
মানববন্ধনে অ্যাডভোকেট প্রদীপ ঘোষ বাবু বলেন, গত ১৩ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর আদালতে জামিন নেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ঘটনার পর জিয়াউল ইসলাম কাজল, তাঁর ভাই আতিকুল ইসলাম মুন্না এবং সংশ্লিষ্ট আরেক আইনজীবীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের আগে দায়ের হওয়া সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রদীপ ঘোষ বাবুর দাবি, ওই ঘটনার সঙ্গে কাজল ও মুন্নার কোনো যোগসূত্র নেই। বিচারব্যবস্থা দীর্ঘদিন রাজনৈতিক প্রভাবের মধ্যে থাকলে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ বাধাগ্রস্ত হবে এবং বিচারব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মানববন্ধন শেষে জিয়াউল ইসলাম কাজল ও আতিকুল ইসলাম মুন্নার অবিলম্বে মুক্তি এবং বিচারব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কারের দাবি জানান সাংস্কৃতিক জোটের নেতাকর্মীরা।
দ্যা প্রেস নিউজ/এফজে
মন্তব্য করুন