প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য আইনের শাসন সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনগণের প্রকৃত সেবাদাতা হিসেবে গড়ে তুলতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে পঞ্চম
‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব
কথা বলেন।
‘নতুন করে গড়ে ওঠা এক বিশ্বে ক্ষমতা, প্রযুক্তি ও আস্থার পথচলা’ প্রতিপাদ্যে
সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত এ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, টেকসই
উন্নয়নের জন্য শুধু অর্থনৈতিক অগ্রগতি যথেষ্ট নয়; এর পাশাপাশি প্রয়োজন শক্তিশালী ও
কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো।
তিনি বলেন, সরকার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জোরদারে কাজ করছে। মানবাধিকার,
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অবশ্যই সুরক্ষিত রাখতে হবে। এমন একটি
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা হবে, যেখানে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রকৃত
অর্থেই বাংলাদেশের মানুষের সেবা করবে।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে
বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে একটি বড় বৈশ্বিক দায়িত্ব পালন করে আসছে।
বর্তমানে প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছে।
তাদের দ্রুত, স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন
সরকারের অন্যতম লক্ষ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের
অব্যাহত রাজনৈতিক সমর্থন ও পর্যাপ্ত অর্থায়ন প্রয়োজন।
তারেক রহমান বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য শুধু প্রত্যাবাসন
নয়, সংকটের মূল কারণগুলোরও সমাধান করতে হবে। কারণ এ সংকটের সূত্রপাত মিয়ানমারে এবং
এর সমাধানও মিয়ানমারেই হতে হবে।
দেশের অর্থনীতিতে কৃষির গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষি
বাংলাদেশের অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু। কৃষকদের প্রযুক্তি, সেচ, অর্থায়ন ও বাজারে প্রবেশাধিকার
বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
পাশাপাশি মৎস্য, গবাদিপশু এবং গ্রামীণ উদ্যোগগুলোকে সহায়তা দেওয়ার
কথা উল্লেখ করেন তিনি। খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানিমুখী
শিল্পের সমন্বয়ের ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, শক্তিশালী গ্রামীণ অর্থনীতি গড়ে উঠলে তা সামগ্রিকভাবে শক্তিশালী
বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখবে।
পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল-জলপথ খননের পরিকল্পনা
পানি নিরাপত্তার বিষয়টিকেও সরকারের অগ্রাধিকারের মধ্যে রাখা হয়েছে
বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলপথ খননের পরিকল্পনার
কথা তুলে ধরেন তিনি।
পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার
পাশাপাশি তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগের কথাও জানান তারেক রহমান। এসব উদ্যোগ
কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় দেশের সক্ষমতা বাড়াতে
সহায়ক হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ ছাড়া সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানো, বর্জ্য পুনর্ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব
শিল্পকারখানা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
বাংলাদেশে বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি লিড-সার্টিফায়েড কারখানার মধ্যে ৫৩টি
রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিবেশবান্ধব ও সবুজ শিল্পায়নকে আরও উৎসাহিত করা হচ্ছে।
পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগর গড়ে তুলতে পারলে বর্জ্য কমানোর পাশাপাশি জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি
এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ সম্ভব হবে।
সিজিএস আয়োজিত তিন দিনব্যাপী পঞ্চম বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনে শতাধিক
দেশের প্রায় ২০০ জন বক্তা, ৩০০ জন প্রতিনিধি এবং এক হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী অংশ
নিয়েছেন।
সম্মেলনে সাবেক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, মন্ত্রী, কূটনীতিক, গবেষক,
সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, উদ্ভাবক ও তরুণ
নেতৃত্ব অংশ নিয়েছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের সভাপতি জিল্লুর
রহমান ও নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসী বক্তব্য দেন।
আন্তর্জাতিক এ সম্মেলন আগামী ৫ অক্টোবর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
দ্যা প্রেস নিজ/এসআর
মন্তব্য করুন