নারায়ণগঞ্জের বন্দরের লাঙ্গলবন্দে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও দখলের অভিযোগে বিএনপির কয়েকজন নেতাসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে অজ্ঞাত আরও ১১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে উপস্থিত
হয়ে বন্দর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মাকসুদ হোসেনের স্ত্রী নার্গিস আক্তার
এ অভিযোগ দেন।
অভিযোগে বন্দর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ লিটন,
মেসার্স বাবুল প্লাস্টিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক জাহাঙ্গির আলম বাবুল, তাঁরা
মিয়া, সেলিম মাহমুদ, পাঁখি মিয়া, আনোয়ার প্রধান, মাহাবুব ওরফে ভাঙ্গারী এবং নারায়ণগঞ্জ-৫
আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালামের ছেলে আবুল কাউসার আশার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে নার্গিস আক্তার দাবি করেন, লাঙ্গলবন্দ মৌজায় তাদের মালিকানাধীন
প্রায় ১৫০ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। ওই জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে
বলেও অভিযোগ করেন তিনি। জমি নিয়ে তার ভাসুরের ছেলে আশরাফুল ইসলাম বাদী হয়ে বন্দর আদালতে
দেওয়ানি মামলা করেছেন এবং আদালত ওই জমির ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন বলে অভিযোগে
উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত পাঁচ বছর ধরে ওই জমিতে মাহমুদুল হাসান শুভ
ব্যবসায়িক অফিস, বালুর গদি ও জিম পরিচালনা করে আসছিলেন। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বিভিন্ন
সময় হুমকি এবং চাঁদা দাবির অভিযোগও করা হয়েছে।
নার্গিস আক্তারের অভিযোগ, গত ১ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে অভিযুক্তরা
শতাধিক লোকজন নিয়ে লাঙ্গলবন্দ বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন চিড়াইপাড়ায় তার ছেলে মাহমুদুল হাসান
শুভর অফিস ও বালুর গদিতে প্রবেশ করেন। এ সময় প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার, কেয়ারটেকার ও
ভেকুচালককে মারধর করে বের করে দেওয়া হয়। পরে লাঠিসোঁটা, লোহার রড ও পাইপ দিয়ে অফিস
ও বালুর গদিতে ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে দাবি করা হয়, এ সময় বালু বিক্রির ক্যাশে থাকা ১ লাখ ২ হাজার
টাকা নিয়ে যাওয়া হয়। পাশাপাশি এসি, সিসিটিভি ক্যামেরা, আসবাবপত্র, ল্যাপটপ, দরজা ও
জানালার কাচ ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ
করা হয়েছে।
পরে বালুর কাজে ব্যবহৃত ভেকু সরিয়ে অফিস ও বালুর গদির প্রবেশপথে তালা
লাগিয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন নার্গিস আক্তার।
একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে লাঙ্গলবন্দ বাজারে মাকসুদ হোসেনের
ব্যক্তিগত অফিস দখল করে নেওয়া এবং সেখানে থাকা তার ব্যানার নামিয়ে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট
আবুল কালামের ব্যানার টাঙিয়ে দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
এ ঘটনায় ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা এবং পরিবারের
সদস্য ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন
জানিয়েছেন নার্গিস আক্তার।
তবে অভিযোগে নাম থাকা আবুল কাউসার আশা হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ
অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, এসব অভিযোগ অপপ্রচার। এর আগে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন,
দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে লাঙ্গলবন্দে গিয়েছিলেন; পরে সেখানে
কী হয়েছে, তা তার জানা নেই।
এদিকে, বন্দর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলে বিরোধপূর্ণ
জমি নিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
দ্যা প্রেস নিজ/এসআর
মন্তব্য করুন