নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা কৃষক দলের কমিটিতে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখার ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি ইব্রাহীম হোসেন ও যুগ্ম আহ্বায়ক তানভীরের বিরুদ্ধে মাদক কারবারে সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
একাধিক সূত্রগুলোর দাবি, ফতুল্লা থানা কৃষক দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে
প্রভাবশালী কয়েকজন নেতার ভূমিকা রয়েছে। তাদের প্রভাবেই বিতর্কিত ব্যক্তিরা কমিটিতে
স্থান পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ইব্রাহীম হোসেনের বিরুদ্ধে অতীতে মাদক ব্যবসায় জড়িত
থাকা এবং মাদকসংক্রান্ত মামলায় একাধিকবার গ্রেপ্তার হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে রাজনৈতিক
পরিচয় ব্যবহার করে মাদক কারবারে জড়িত ব্যক্তিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে
তার বিরুদ্ধে। তবে
অন্যদিকে, একই কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক তানভীরের বিরুদ্ধে ফতুল্লার কাশীপুর
এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তার ভাই সানির বিরুদ্ধেও একই
ধরনের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, কাশীপুর এলাকায় তাদের নামেএকটি মাদক
বিক্রির স্পট পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।
গত ২৫ জুলাই ফতুল্লার ডিআইটি মাঠে কৃষক দলের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনের পর কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে ফতুল্লা থানা কৃষক দলের নতুন কমিটি গঠন
করা হয়। ওই কমিটিতে তানভীরকে যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে
জানা গেছে।
এ নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের একাংশের প্রশ্ন, যাদের বিরুদ্ধে মাদক
কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে, তাদের সাংগঠনিক পদ দেওয়ার আগে যথাযথ যাচাই করা হয়েছিল
কি না। রাজনৈতিক সংগঠনের পদ-পদবি ব্যবহার করে কেউ যেন অবৈধ কর্মকাণ্ডে সুবিধা নিতে
না পারেন, সে বিষয়ে নেতৃত্বের সতর্ক থাকা প্রয়োজন বলেও মনে করছেন স্থানীয়রা।
সম্মেলনের আগের দিন ফতুল্লার বিভিন্ন স্থানে বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ
নেতা এবং কৃষক দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ছবি সংবলিত ফেস্টুন টাঙানো হয়েছিল। এসব
ফেস্টুনের মাধ্যমে এলাকায় নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান ও প্রভাব তুলে ধরার চেষ্টা করা
হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ফতুল্লা থানা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক সুমন আহমেদের কাছে তানভীরকে
কমিটিতে পদ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তানভীরকে আমরা আমাদের কমিটির যুগ্ম
আহ্বায়ক করেছি। এ জন্য একটি খসড়াও করা হয়েছে। আর যেহেতু তিনি রাজনীতি করতে চান, তাকে
পদ তো দিতেই হবে।
ফতুল্লা থানা কৃষক দলের কমিটিতে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের
বিষয়ে সংগঠনের ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের অবস্থান কী, তা নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও
আগ্রহ রয়েছে। অভিযোগগুলো তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া
হবে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
দ্যা প্রেস নিজ/এসআর
মন্তব্য করুন