নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বিএনপির কর্মীসমাবেশে যুবলীগের দুই নেতার উপস্থিতি ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সমাবেশে তাঁদের উপস্থিতি এবং রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে দলটির স্থানীয় পর্যায়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে ফতুল্লা থানাধীন কুতুবপুর ইউনিয়নের লাকিবাজার এলাকায় যুবলীগ নেতা সোহাগের বাড়ির সামনে এ কর্মীসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
সমাবেশকে ঘিরে আলোচনায় আসেন কুতুবপুর ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা সুমন ওরফে ‘লম্বু সুমন’ এবং যুবলীগের আরেক নেতা নুর আলম। তাঁদের উপস্থিতি ও অতীত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ওই কর্মীসমাবেশে কুতুবপুর ইউনিয়ন বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল না। অন্যদিকে, অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এমন কয়েকজন ব্যক্তির উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের কেউ কেউ।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, লাকিবাজার এলাকা অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির একটি শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্যক্তি বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থান ও দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিএনপির একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।
তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দলীয় কর্মসূচিতে কারা অংশ নিচ্ছেন এবং তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয় কী—তা নিয়ে স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে অতীতে ভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের উপস্থিতি দলীয় আদর্শ ও সাংগঠনিক অবস্থানের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে, কর্মীসমাবেশে যুবলীগের ওই দুই নেতার উপস্থিতির বিষয়ে বিএনপির স্থানীয় নেতৃত্বের অবস্থান কী, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্য এবং অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের অবস্থান পরিবর্তন নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বিতর্ক তৈরি হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে অভিযোগের সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ এবং দলীয় নেতৃত্বের স্পষ্ট অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ।
ফতুল্লার কুতুবপুরে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থান, তৃণমূলের সঙ্গে নেতৃত্বের সমন্বয় এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রশ্ন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
দ্যা প্রেস নিউজ/এসআর