চণ্ডীপাঠ, শঙ্খধ্বনি ও প্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জে উদযাপিত হয়েছে শুভ মহালয়া। দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা, পূর্বপুরুষদের স্মরণ এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। এদিকে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে শহরের নিতাইগঞ্জের শ্রী শ্রী বলদেব জিউর আখড়া ও শিবমন্দিরের মণ্ডপসজ্জায় এবার বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে দেশপ্রেম এবং জাতীয় পতাকার লাল-সবুজ রং।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে নিতাইগঞ্জের মন্দির প্রাঙ্গণে মহালয়া উপলক্ষে
নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকাল ৬টায় চণ্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা।
পরে সকাল ৭টায় প্রদীপ প্রজ্বালন ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন
করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। সকাল ৯টায় ভক্তদের মধ্যে
প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
উদ্বোধনী বক্তব্যে অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, শুভ মহালয়া দেবী দুর্গার
আগমনী বার্তা নিয়ে আসে। এর মধ্য দিয়ে অশুভ শক্তির বিনাশ এবং পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠার
প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। নারায়ণগঞ্জকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির শহর উল্লেখ করে তিনি
বলেন, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রেখে সবাইকে একসঙ্গে একটি আধুনিক, উন্নত
ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
বলদেব জিউর মন্দির কমিটির সভাপতি জয় কে রায় চৌধুরী বাপ্পী বলেন, এবারের
মণ্ডপসজ্জার মূল ভাবনা দেশপ্রেম এবং বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার লাল-সবুজ রং। দেশের প্রতি
ভালোবাসা ও জাতীয় পতাকাকে শক্তির উৎস হিসেবে বিবেচনা করেই সাজসজ্জার পরিকল্পনা করা
হয়েছে।
তিনি জানান, মণ্ডপসজ্জায় স্থানীয় কুটিরশিল্পের পাশাপাশি পাতার বাটি,
কদম ফুল, আলোকসজ্জা ও চিত্রপ্রদর্শনীর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে দেবী দুর্গার
১০টি অস্ত্রের আধ্যাত্মিক তাৎপর্য তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব আয়োজনের মধ্য
দিয়ে ধর্মীয় ঐতিহ্যের পাশাপাশি দেশীয় সংস্কৃতি ও দেশপ্রেমের বার্তা তুলে ধরতে চান আয়োজকেরা।
মহালয়ার অনুষ্ঠানে মন্দিরের ভক্তদের পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার
মানুষ অংশ নেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মন্দিরের প্রধান উপদেষ্টা শংকর চন্দ্র সাহা, উপদেষ্টা
সমীর সাহা, সহসভাপতি সজল রায়, সাধারণ সম্পাদক প্রবাস সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক রঞ্জিত
ভৌমিক ও পণ্ডিত কৃষ্ণ চক্রবর্তীসহ মন্দির কমিটির অন্য সদস্যরা।
এদিকে শহরের টানবাজার এলাকার বঙ্গবিহারী আখড়া ও হনুমান জিউর মন্দিরেও
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে শুভ মহালয়া উদযাপন করা হয়েছে। সেখানে চণ্ডীপাঠ,
গীতিনৃত্যনাট্য এবং সরাসরি সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন করা হয়। এতে ভক্ত ও স্থানীয়
শিল্পীরা অংশ নেন।
মন্দিরের পুরোহিত ও আয়োজকদের উদ্যোগে এসব অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শারদীয়
দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক আবহ ছড়িয়ে পড়ে। মহালয়াকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন মন্দিরে
ভক্তদের উপস্থিতি ও ধর্মীয় আয়োজনের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আগমনী বার্তা উদযাপিত হয়।
দ্যা প্রেস নিজ/এসআর
মন্তব্য করুন