অপহরণের ঘটনার পর
নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে থানায় জমা থাকা নিজের লাইসেন্স করা দুটি
আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি ফেরত চেয়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করেছেন
নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী নেতা মোহাম্মদ সোহাগ।
মোহাম্মদ সোহাগ নারায়ণগঞ্জ
চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক এবং মীম শরৎ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা
পরিচালক। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ও নারায়ণগঞ্জ
আটা-ময়দা মিল মালিক সমিতির সভাপতি এবং বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে
দেওয়া আবেদনে সোহাগ জানান,
তার নামে বৈধভাবে ইস্যু করা একটি .৩২ বোর এনপিবি পিস্তল ও একটি
শর্টগান রয়েছে। সরকারি নির্দেশনার আওতায় ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট অস্ত্র দুটি এবং এর
গুলি ফতুল্লা মডেল থানায় জমা দেন তিনি।
আবেদনে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে
শঙ্কার কারণ হিসেবে ২০২৫ সালের ১ জুনের অপহরণের ঘটনাটি তুলে ধরেছেন সোহাগ। ওই রাতে
ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে বাসায় ফেরার সময় সরকারি তোলারাম কলেজের সামনে থেকে তাকে
তুলে নেওয়া হয়। পরদিন পটুয়াখালীর পায়রাকুঞ্জ ফেরিঘাট এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা
হয়।
ঘটনাটির পর তার স্ত্রী
তানিয়া আহম্মেদ বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ সাতজনের
বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর ফতুল্লা আমলি চিফ জুডিশিয়াল
ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ওই অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন।
সোহাগের আবেদনে বলা হয়েছে, অভিযোগপত্র
দাখিলের পর থেকে তিনি বিভিন্নভাবে হুমকির মুখে রয়েছেন। এ অবস্থায় ব্যক্তিগত
নিরাপত্তার পাশাপাশি ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা নিয়েও উদ্বেগের মধ্যে আছেন
তিনি।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৪
সালের জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর থেকেই তিনি নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার
মধ্যে ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। অপহরণের ঘটনার পর সেই উদ্বেগ আরও বেড়েছে
বলে আবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের ১৪ মার্চও
অস্ত্র ফেরত পাওয়ার বিষয়ে উদ্যোগ নিতে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড
ইন্ডাস্ট্রির সভাপতির কাছে আবেদন করেছিলেন সোহাগ। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ
করে বিষয়টি সমাধানে সহযোগিতাও চেয়েছিলেন তিনি।
সর্বশেষ আবেদনে নিজের নামে নিবন্ধিত ও লাইসেন্সকৃত
দুটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং সংশ্লিষ্ট গুলি ফেরত দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা
ম্যাজিস্ট্রেটের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এই ব্যবসায়ী নেতা।
দ্যা প্রেস নিউজ/এফজে
মন্তব্য করুন