ধলেশ্বরী নদীর তীরে কথিত অবৈধ মাটি কাটার প্রতিবাদকে
কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বক্তাবলীতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক
নেতার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। হামলায়
এনসিপির জেলা কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক তাওহীদুল ইসলাম তাওহীদ আহত হয়েছেন।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে বক্তাবলী
ইউনিয়নের বক্তাবলী বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত তাওহীদুলকে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা
বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন এনসিপির প্রচার উপকমিটির
সম্পাদক সোনিয়া আক্তার লুবনা।
এনসিপি সূত্রে জানা যায়, বক্তাবলী
বাজারে স্থানীয় এক নেতার বাড়িতে দলটির সাংগঠনিক বৈঠক ছিল। এতে জেলা কমিটির আহ্বায়ক
যুবাইর সরদারসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা অংশ নেন। বৈঠক শেষে বাজার এলাকায় স্থানীয়
বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলার সময় ধলেশ্বরী নদীর তীরে মাটি কাটার বিষয়টি সামনে আসে।
স্থানীয়দের অভিযোগ শোনার পর এনসিপির নেতারা বিষয়টি
নিয়ে প্রতিবাদ জানান এবং বক্তব্য দেন। এরপরই তাদের ওপর হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ
করেন দলটির নেতারা।
এনসিপির প্রচার উপকমিটির সম্পাদক সোনিয়া আক্তার লুবনা
বলেন, মাটি কাটার প্রতিবাদ করে বক্তব্য দেওয়ার পর স্থানীয় বিএনপির
নেতা-কর্মীরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান। এতে তাওহীদুল গুরুতর আহত হন
এবং তার মাথায় আঘাত লাগে।
হামলার ঘটনায় বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক
সম্পাদক হালিম আজাদের নির্দেশে তার ছোট ভাই ইয়াসিন ও অনুসারীরা জড়িত ছিলেন বলেও
অভিযোগ করেছে এনসিপি।
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে
প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এনসিপির সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট
আব্দুল্লাহ আল আমিন। তিনি হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি
জানান এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা হালিম
আজাদ। তিনি বলেন,
এনসিপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে স্থানীয় কিছু লোকের ঝগড়া ও মারামারির
কথা তিনি শুনেছেন। সেখানে তাওহীদুল আহত হয়েছেন বলেও জেনেছেন। কিন্তু ওই ঘটনায় তিনি
বা বিএনপির কোনো নেতা-কর্মী জড়িত নন বলে দাবি করেন তিনি। কার সঙ্গে এনসিপির
নেতাকর্মীদের বিরোধ হয়েছে, সেটিও তিনি জানেন না বলে
জানান।
হালিম আজাদ আরও বলেন, বিষয়টি তিনি নিজেও খোঁজ
নিয়ে দেখছেন।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
(ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলমের সরকারি নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও
তিনি সাড়া দেননি।
তবে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক
সার্কেল) শামীম হোসাইন বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তদন্তের
পর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দ্যা প্রেস নিউজ/এফজে
মন্তব্য করুন