বুধবার (৭ অক্টোবর) দিনভর দুই পক্ষের আইনজীবীরা নিজ নিজ বলয়ের নেতাদের সঙ্গে সমিতি ভবনে অবস্থান করেন। একপর্যায়ে তারা পরস্পরকে লক্ষ্য করে তীর্যক স্লোগান দিলেও কোনো মারামারি, হাতাহাতি বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই আদালতের কার্যক্রম ও আইনজীবীদের পেশাগত কাজ চলতে দেখা যায়।
আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ূন কবির বলেন, “আজকে পরিস্থিতি অনেক ঠান্ডা। কোনো মারামারি বা হাতাহাতির ঘটনা নেই, আদালতপাড়ায় কোনো ঝামেলা নেই।”
দুপুর ১টার দিকে আইনজীবী সমিতি ভবনে যান নাসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। তিনি ভবনের নিচতলায় অবস্থান নিলে তার সঙ্গে থাকা আইনজীবীরাও সেখানে জড়ো হন। নিজেদের মধ্যে আলোচনা করার পাশাপাশি পরে তাদের একসঙ্গে খাবার খেতে দেখা যায়।
অন্যদিকে, একই সময়ে ভবনের কাছাকাছি টেবিলে আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচএম আনোয়ার প্রধানকে অনুসারীদের সঙ্গে অবস্থান করতে দেখা যায়। তারাও নিজেদের মধ্যে আলোচনা ও খাবার খাওয়ার মধ্য দিয়ে সময় কাটান।
প্রায় দুই ঘণ্টা পর দুপুর ২টার দিকে সাখাওয়াত হোসেন খান আইনজীবী সমিতি ভবন থেকে বেরিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর আনোয়ার প্রধানও ভবন ত্যাগ করেন। পরে দুপুর ২টা ১৬ মিনিটে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু সেখানে এসে নিচতলায় অবস্থান নেন।
এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে আইনজীবী সমিতি ভবনের দ্বিতীয় তলায় বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা থেকে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান লাঞ্ছিত হন বলে অভিযোগ করা হয়। ঘটনায় জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর আবুল কালাম আজাদ জাকির, অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক নয়নসহ দুই পক্ষের কয়েকজন আইনজীবী আহত হন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলা আইনজীবী সমিতির আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের মধ্যে বিভাজন স্পষ্ট হয়েছে। একদিকে রয়েছেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এইচএম আনোয়ার প্রধান এবং পিপি আবুল কালাম আজাদ জাকির। অপরদিকে রয়েছেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান এবং সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ূন কবির।
মঙ্গলবারের উত্তেজনার পরদিন একই ভবনে দুই পক্ষের উপস্থিতি থাকলেও পরিস্থিতি আর উত্তপ্ত হয়নি। শেষ পর্যন্ত আদালতপাড়ায় স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত ছিল।
দ্যা প্রেস নিউজ/এফজে
মন্তব্য করুন