নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ ও শহরের পশ্চিম দেওভোগে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি ভবনে গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ ১০ জন দগ্ধ ও আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সোনারগাঁয়ে দগ্ধ চারজনের শরীরের ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ পুড়ে গেছে। দেওভোগে আহত তিনজনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
রোববার (১১ অক্টোবর) রাত ২টার দিকে সোনারগাঁয়ের কাঁচপুরের সোনাপুর এলাকায় ছয়তলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় প্রথম বিস্ফোরণ ঘটে। পরে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে শহরের পশ্চিম দেওভোগের আখড়ার মোড় এলাকায় তিনতলা একটি ভবনের নিচতলায় আরেকটি বিস্ফোরণ হয়।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফীন দুটি ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সোনারগাঁয়ে একই পরিবারের চারজন দগ্ধ
কাঁচপুরের সোনাপুর এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এতে মো. শরিফ (৩৪), তাঁর স্ত্রী রোজিনা (৩০), রোজিনার ভাই রিয়াজ (২২) ও মো. রনি (১৯) দগ্ধ হন। তাঁদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. সুলতান মাহমুদ শিকদার জানান, দগ্ধদের মধ্যে রনির শরীরের ৭০ শতাংশ, রোজিনার ৬০ শতাংশ এবং শরিফ ও রিয়াজের প্রত্যেকের ৪০ শতাংশ পুড়ে গেছে।
দেওভোগে দেয়াল ধসে পাশের ভবনেও ক্ষতি
শহরের পশ্চিম দেওভোগের আখড়ার মোড় এলাকায় বিস্ফোরণের পর তিনতলা ভবনটির নিচতলার দেয়াল ভেঙে পাশের একটি কাঁচা ভবনের ওপর পড়ে। এতে দুই ভবনের দেয়াল, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এ ঘটনায় আহত ছয়জনের মধ্যে তিনতলা ভবনের বাসিন্দা শিখা রানী (৫৫), মনা আচার্য (৬০) ও তাঁর মা আশা রানী (১০০) রয়েছেন। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এ ছাড়া পাশের কাঁচা ভবনের পুষ্পিতা (১০), নিপা (৩৫) ও ঘরনীতাই (৬) আহত হন। তাঁরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফীন বলেন, দেওভোগের ভবনটির নিচতলার রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাস থেকে বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বৈদ্যুতিক স্পার্কের সংস্পর্শে জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরিত হয়ে থাকতে পারে।
তিনি আরও জানান, ভবনটিতে অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা ছিল না। পাশাপাশি গ্যাসের লাইনও যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হতো না বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
দ্যা প্রেস নিউজ/এফজে
মন্তব্য করুন