রোববার (১১ অক্টোবর) মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ও সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট মো. আবু আল ইউসুফ খান টিপুর সই করা পৃথক চিঠিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। চিঠি পাওয়ার পর থেকেই আদেশ কার্যকর হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ৮ অক্টোবর পাঠানো কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব পর্যালোচনা করে সন্তুষ্ট হতে পারেনি মহানগর বিএনপি। দলটির ভাষ্য, ৬ অক্টোবরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেওয়া নোটিশের জবাবে সংশ্লিষ্ট নেতারা দুঃখ প্রকাশ বা অনুশোচনা না করে সদস্যসচিব ব্যক্তিস্বার্থে নোটিশ দিয়েছেন বলে অভিযোগ তোলেন।
মহানগর বিএনপির অভিযোগ অনুযায়ী, ৬ অক্টোবর আনোয়ার প্রধানের নেতৃত্বে আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খানের সঙ্গে অশোভন ও আক্রমণাত্মক আচরণ করা হয়। ওই সময় রিফাত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা না করে বরং উসকানি ও সহযোগিতা করেছেন বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। সাখাওয়াত হোসেন খানকে অবরুদ্ধ রাখা এবং পরে ক্ষমা চেয়ে চলে যাওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যকে মিথ্যা দাবি করার বিষয়টিও চিঠিতে তুলে ধরা হয়েছে।
কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাবে ঘটনাটিকে আইনজীবী ফোরামের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন সংশ্লিষ্ট নেতারা। তবে মহানগর বিএনপির বক্তব্য, সাখাওয়াত হোসেন খান সেখানে আইনজীবী ফোরামের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, সংগঠনের আহ্বায়ক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সে কারণে তাঁর সঙ্গে এমন আচরণকে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
পৃথক চিঠিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নবনিযুক্ত বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট সুমন মিয়ার দায়িত্ব পালনে প্রতিবন্ধকতা তৈরির অভিযোগও আনা হয়েছে। তাঁর সরকারি চেম্বারে তালা দেওয়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উল্লেখ করে মহানগর বিএনপি বলেছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।
এসব অভিযোগ এবং নোটিশের জবাব বিবেচনায় নিয়ে আনোয়ার প্রধানের দুটি সাংগঠনিক পদ ও রিফাতের ওয়ার্ড সভাপতি পদ স্থগিত করা হয়েছে। সিদ্ধান্তের অনুলিপি বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক বরাবরও পাঠানো হয়েছে।
এদিকে নিজের বিরুদ্ধে নেওয়া সিদ্ধান্তকে অন্যায্য আখ্যা দিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যানের কাছে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন আনোয়ার প্রধান। রোববার ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমাকে যারা অন্যায়ভাবে নারায়ণগঞ্জ সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদ স্থগিত করল, তাদের বিচার বিএনপির সকল নেতাকর্মীদের কাছে দিলাম। নিশ্চয়ই আমি এই বিষয়ে বিএনপির মাননীয় চেয়ারম্যান বরাবর আপিল করব, ইনশাআল্লাহ। সবার আগে বাংলাদেশ।’
এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট মো. আবু আল ইউসুফ খান টিপুর বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
মন্তব্য করুন