পবিত্র কোরআনের ‘পড়ো তোমার রবের নামে, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন’—এই নির্দেশনাকে ধারণ করে পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। আয়োজকদের আশা, পরিবারের সদস্যদের বই পড়ায় আগ্রহী করে তোলার পাশাপাশি এটি স্থানীয় মানুষের জ্ঞান ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর আমির মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল জব্বার। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগরীর নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল কাইয়ুম।
বক্তব্যে মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল জব্বার বই পড়ার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না।’ পবিত্র কোরআনের বক্তব্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, জ্ঞানী ও জ্ঞানহীন ব্যক্তি সমান নন। জ্ঞান বাড়াতে পাঠাগারে আসা এবং নিয়মিত বই পড়ার বিকল্প নেই। যত বেশি পড়া ও জানা যাবে, শেখার পরিধিও তত বিস্তৃত হবে।
নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ন্যায়-অন্যায় সম্পর্কে অজ্ঞতা ও সচেতনতার ঘাটতিও অপরাধের অন্যতম কারণ। বই মানুষকে সঠিক-বেঠিকের পার্থক্য বুঝতে এবং নৈতিকতা অর্জনে সহায়তা করে। আল্লাহর প্রতি ভয় ও জবাবদিহির অনুভূতি মানুষকে অন্যায় থেকে দূরে রাখতে পারে। এ জন্য জ্ঞান অর্জনে বই পড়াকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সমাজে পারস্পরিক ঐক্য বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন এই জামায়াত নেতা। তিনি বলেন, বিচ্ছিন্ন না থেকে সবাইকে আল্লাহর রজ্জু দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
মহানগরী জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি এইচ এম নাসির উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য ও উপস্থিতি জানান হাজীগঞ্জ নবু মিস্ত্রি জামে মসজিদের সভাপতি আলহাজ ডা. মো. জসিমউদ্দিন, তল্লা সাধারণ পাঠাগারের সভাপতি আলহাজ মো. কুতুবউদ্দিন শাহীন, আলহাজ অ্যাডভোকেট মো. ইব্রাহীম, আলহাজ ইঞ্জিনিয়ার মো. সেলিম সরকার, ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. রুহুল আমীন টিপু এবং দৈনিক আলোকিত সকালের প্রতিনিধি মনির হোসেন সুমন।
পাঠাগারটির প্রতিষ্ঠাতা, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক আমির মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমাদ বলেন, জ্ঞান অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো পাঠাগার। জীবনের একটি পর্যায়ে এসে সবার পক্ষে স্কুল, কলেজ কিংবা মাদ্রাসায় গিয়ে নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। কিন্তু জ্ঞান অর্জনের প্রয়োজন কখনো ফুরিয়ে যায় না। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করতেও জ্ঞান অর্জন জরুরি।
তিনি জানান, ১৯৬৪ সালে এ ধরনের একটি উদ্যোগ নেওয়ার সময়ই ‘আহরনী’ নামটি নির্বাচন করেছিলেন। তাঁর মতে, প্রতিটি বাড়িতে পারিবারিক পাঠাগার থাকা দরকার, যাতে পরিবারের সদস্যরা অবসর সময়ে বই পড়ে নিজেদের জ্ঞান সমৃদ্ধ করতে পারেন।
অনুষ্ঠানে দোয়া পরিচালনা করেন জামিয়া হুসাইনিয়া আরাবিয়া হাজীগঞ্জ মাদ্রাসার মুহতামিম আলহাজ হযরত মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ ইমরান হুসাইন।
আয়োজকেরা আশা করছেন, ‘আহরনী’ পারিবারিক পাঠাগার স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, জ্ঞানচর্চার বিস্তার এবং নৈতিক মূল্যবোধ জোরদারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
দ্যা প্রেস নিউজ/এফজে
মন্তব্য করুন