মাদক, সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং ও সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধের লক্ষ্য নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে সামাজিক সংগঠন ‘নাগরিক শক্তি নারায়ণগঞ্জ’। সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা এবং বিপথগামী তরুণদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ
সম্মেলনে সংগঠনের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, কর্মপরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রম তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক ও প্রধান সমন্বয়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল
(অব.) হুমায়ুন কবির রিপন জানান, গত ১৫ জুন সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ও অলাভজনক সংগঠন হিসেবে
‘নাগরিক শক্তি নারায়ণগঞ্জ’ গঠন করা হয়েছে। একতা, সততা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ব—এই চারটি
মূলনীতিকে সামনে রেখে সংগঠনটি কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকায় অপরাধপ্রবণতা ও সামাজিক
বিশৃঙ্খলা কমাতে প্রাথমিকভাবে গলাচিপা এলাকাকে ‘পাইলট প্রজেক্ট’ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
সেখানে কার্যক্রমের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে পুরো নারায়ণগঞ্জ শহরকে সংগঠনের
কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কোনো অপরাধীকে সামাজিক কিংবা সাংগঠনিকভাবে
আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। কেউ সংগঠনের নাম বা পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড
আড়াল করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য ও সাক্ষ্য
দিয়ে সহযোগিতা করা হবে।
পাশাপাশি অপরাধপ্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে আগ্রহী বিপথগামী তরুণদের পুনর্বাসনের
উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কারিগরি ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, ভাষা শিক্ষা এবং বিভিন্ন
যুব উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের কর্মমুখী করার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।
গলাচিপা পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন (মন্টু) বলেন,
নব্বইয়ের দশকে গড়ে ওঠা ‘প্রতিবেশী নিরাপত্তা কমিটি’ ও পরবর্তী কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমের
ধারাবাহিকতায় বর্তমান বাস্তবতায় নতুন এই নাগরিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা হয়েছে। মাদক নিয়ন্ত্রণে
শুধু মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া নয়, মাদকের অবৈধ উৎস বন্ধ এবং সামাজিক সচেতনতা
বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার ঠেকাতে
প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদেরও সক্রিয় ভূমিকা
প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন, র্যাবসহ
সংশ্লিষ্ট সরকারি ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে
সংগঠনটির।
তারা আরও জানান, পর্যায়ক্রমে নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডের নাগরিকদের সম্পৃক্ত
করে স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক সমস্যা চিহ্নিত করা হবে। একই সঙ্গে মাদক, সন্ত্রাস, কিশোর
গ্যাং ও অন্যান্য অপরাধ প্রতিরোধে সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল
পরিবেশ তৈরিতে নাগরিক উদ্যোগ জোরদার করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আনোয়ার হোসেন আনু, নাজিম উদ্দিন পন্টু, আরাফাত আহমেদ
রাজিব, অ্যাডভোকেট মাহমুদ কবির খোকন, মোস্তাফিজুর রহমান, লিটন চন্দ্র পাল, আলমগীর আজিজ
ইমন ও সাগর আহমেদসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
দ্যা প্রেস নিজ/এসআর
মন্তব্য করুন