নারায়ণগঞ্জ শহরের যানজট কমাতে এবার ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে মাঠে কাজ করবেন ২২ জন স্বেচ্ছাসেবক। নগরের ব্যস্ত সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এক মাসের জন্য তাঁদের এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ), নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, মডেল গ্রুপ ও ‘উই আর ভলান্টিয়ার’ যৌথভাবে এ উদ্যোগ নিয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) চাষাঢ়া মোড়ে স্বেচ্ছাসেবক কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম এর উদ্বোধন করেন। পরে দায়িত্ব পালনকারী স্বেচ্ছাসেবকদের হাতে জ্যাকেট ও বডি ক্যামেরা তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, নারায়ণগঞ্জ নগরের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র চাষাঢ়া মোড়। এটি যানজটমুক্ত রাখা সম্ভব হলে নগরবাসীর মূল্যবান কর্মঘণ্টা সাশ্রয় হবে।
তিনি বলেন, চাষাঢ়াকে ঘিরে বিভিন্ন জায়গায় অটোরিকশার স্ট্যান্ড ও হকার বসার কারণে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে। তাই সবার সহযোগিতা নিয়ে চাষাঢ়া থেকে উদ্যোগটি শুরু করা হয়েছে। পরে পর্যায়ক্রমে নগরের অন্যান্য যানজটপ্রবণ এলাকাতেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা শহরের বিদ্যমান জটিলতা একদিনে দূর করা সম্ভব নয়। নগরকে পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার মধ্যে আনতে সময় ও ধৈর্য প্রয়োজন। এ জন্য ট্রাফিক পুলিশ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ নাগরিকদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হকার, অটোরিকশা চালকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করতে হবে। যানজট নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশন ইতোমধ্যে কর্মী নিয়োগ করেছে। প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতে আরও কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, অটোরিকশা ও রিকশার চলাচলে নির্ধারিত ব্যবস্থা এবং পরিচয়পত্রের আওতায় থাকা যানবাহনকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি নগরকে অপরাধমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন রাখতে পুলিশ, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।
বিকেএমইএর সহসভাপতি (অর্থ) মোরশেদ সারোয়ার সোহেল বলেন, ২২ জনের একটি দলকে এক মাসের জন্য মাঠে নামানো হয়েছে। তাঁদের বেতন বাবদ প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা ব্যয় হবে। ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো মিলে এই অর্থের জোগান দিচ্ছে। এ কাজে চেম্বার অব কমার্স, বিকেএমইএ ও মডেল গ্রুপ সহযোগিতা করছে।
তিনি বলেন, ট্রাফিক পুলিশের আহ্বান এবং নগরবাসীর সুবিধার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাঁরা এ উদ্যোগে যুক্ত হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জের মানুষের স্বার্থে ব্যবসায়ীরা অতীতেও পাশে ছিলেন, বর্তমানে আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন।
পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনডিএ) চেয়ারম্যান মাশুকুল ইসলাম রাজীব, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবির, বিকেএমইএর সহসভাপতি (অর্থ) মোরশেদ সারোয়ার সোহেল, আবুল কালামের রাজনৈতিক সচিব আবুল কাউছার আশা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) সোহেল রানা, নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন পন্টি, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি, সদর মডেল থানার ওসি সাজেদুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক সোহেল আক্তার সোহান এবং ‘উই আর ভলান্টিয়ার’-এর প্রতিষ্ঠাতা আহমেদুর রহমান তনুসহ অনেকে।
দ্যা প্রেস নিউজ/এফজে
মন্তব্য করুন