সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ কার্যালয়ে প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদের কক্ষে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে বৈঠকটি চলে। আলোচনা শেষে যৌথ ব্রিফিংয়ে কর্মসূচি স্থগিতের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, যাত্রী, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, চেম্বার অব কমার্স, বিআরটিএ ও বাস মালিক সমিতির প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। এতে বাসভাড়া নিয়ে একটি নীতিগত অবস্থানে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে এবং ছাত্র প্রতিনিধিরা ৭ অক্টোবর পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত করেছেন।
তিনি বলেন, যাত্রীদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে বাস মালিকরা ভাড়ার ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দিতে রাজি হয়েছেন। আগামী ৭ অক্টোবর বিকেল ৪টায় সংশ্লিষ্ট সবাই আবার বৈঠকে বসবেন। সেদিন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে যৌথভাবে ব্রিফিং করা হবে।
এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শিক্ষার্থীদের জন্য ৩৪ টাকা হাফ পাস নির্ধারণের বিষয়ে সমঝোতা হলেও সাধারণ যাত্রীদের ভাড়া নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। চার দফা আলোচনার পরও সমাধান না হওয়ায় সাত ছাত্র সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ‘পরিবহন সিন্ডিকেট বিরোধী ছাত্র ঐক্য’ আন্দোলনের পাশাপাশি ৬ অক্টোবর ব্লকেড কর্মসূচি ঘোষণা করে।
এবারের বৈঠক নিয়ে নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনডিএ) চেয়ারম্যান মাশুকুল ইসলাম রাজীব বলেন, দীর্ঘদিনের জটিলতা নিরসনে একাধিক দফা আলোচনার পর নীতিগত ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। যাত্রীদের প্রত্যাশা পূরণের পাশাপাশি পরিবহন মালিকদের ব্যবসায়িক বিষয়ও বিবেচনায় রেখে দ্রুত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে।
গণসংহতি আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়কারী বলেন, প্রশাসনের আশ্বাস এবং বাস মালিকদের নারায়ণগঞ্জবাসীর স্বার্থে নীতিগত সিদ্ধান্তে আসার বিষয়টি বিবেচনা করে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। ওইদিন একটি যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ হবে বলে তারা প্রত্যাশা করছেন।
বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ফারহানা মানিক মুনা বলেন, সাধারণ যাত্রীদের ৫৮ টাকা ও শিক্ষার্থীদের ৩৪ টাকা ভাড়া নির্ধারণের প্রস্তাবের পক্ষে নীতিগত অবস্থান তৈরি হয়েছে। তবে অন্যান্য বাস মালিকদের সঙ্গে আলোচনার জন্য তারা সময় চেয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, স্থায়ী সমাধানের জন্য ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বিআরটিসির বাসের সংখ্যা বাড়ানো এবং রেলপথ দ্বিমুখী করার পাশাপাশি ট্রেনের বগি বাড়ানোর বিষয়েও কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নেবে বলে তারা আশা করছেন।
জাতীয় ছাত্রশক্তি ও ছাত্র ফেডারেশনের নেতারা জানান, সংঘাতের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি করতেই ব্লকেড কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। তবে ৭ অক্টোবর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে দাবি বাস্তবায়িত না হলে রাজপথের আন্দোলন ও পরবর্তী কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
বৈঠকে বিআরটিএ নারায়ণগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পরিদর্শক মো. মাহবুবুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান মাসুম, সিটি বন্ধন পরিবহনের পরিচালক শেখ সালাউদ্দিন, সাবেক চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন খান (লিটন), পরিচালক মো. রতন, উৎসব পরিবহনের পরিচালক মো. লিটন ও মো. আনোয়ার, বাংলাদেশ ফার্মাসিস্ট আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি মাহবুবুর রহমান শামীম, ছাত্রদলের মেহেদী হাসান ফারহান ও সারোয়ার হোসেন সজীব, জাতীয় ছাত্রশক্তি নারায়ণগঞ্জ মহানগরের মুখ্য সংগঠক হিমাংশু দেওয়ান, জাহিদুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আমিরুল ইসলাম এবং খেলাফত ছাত্র মজলিসের আশরাফুল ইসলাম মুজিবসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
দ্যা প্রেস নিউজ/এফজে
মন্তব্য করুন