অভিযোগে স্থানীয় টিপু, শফিক, আউয়াল, বাবু ও মনিরসহ ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে অভিযোগের এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
লিখিত অভিযোগে রবিউল্লাহ জানান, তার বড় ছেলে বিপ্লব (৩২) টিসিবি পণ্যের ডিলার এবং তল্লা নতুন রাস্তা এলাকায় তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) ভোর ৬টার দিকে বিপ্লব তার ভাগিনা বউ মুক্তার (৩০) বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে পরিচিত সাগর (৩৫) ও তার এক বন্ধুর সঙ্গে মোটরসাইকেলে রওনা হন।
অভিযোগে বলা হয়, সকাল ৬টা ১০ মিনিটের দিকে তারা তল্লা মেম্বার পট্টি এলাকায় ১ নম্বর বিবাদীর বাড়ির সামনে পৌঁছালে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া কয়েকজন তাদের পথরোধ করে। এ সময় লোহার রড, কাঠের ডাসা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ঘিরে ধরে মারধর করা হয়।
রবিউল্লাহর দাবি, হামলাকারীদের একজন টিপু লোহার রড দিয়ে বিপ্লবের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে মাথার দুই পাশে ও এক কানে রক্তাক্ত জখম হয়। অন্যদের মারধরে শরীরের বিভিন্ন স্থানেও আঘাত লাগে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হামলার একপর্যায়ে বিপ্লবের গলায় থাকা ৮ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন, বাম হাতের ৩ ভরি রূপার ব্রেসলেট, একটি ভিভো স্মার্টফোন, একটি বাটন ফোন এবং ব্যবসার কাজে রাখা প্রায় ৩ লাখ ১১ হাজার টাকা নিয়ে নেওয়া হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে বিপ্লবের ছোট ভাই জুবায়ের (২৬) সেখানে গেলে তাকেও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাদের বাবা। পরে হামলাকারীরা সাগরকে আটক করে স্থানীয়দের কাছে হস্তান্তর করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
পরে আহত বিপ্লব ও জুবায়েরকে নারায়ণগঞ্জের ৩০০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এদিকে বিপ্লবের পরিবারের অভিযোগের পাশাপাশি স্থানীয় কয়েকজন টিপুর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের দাবি, তিনি নিজেকে বিএনপি নেতা পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। তবে ফতুল্লা থানা বা ইউনিয়ন বিএনপিতে তার কোনো পদ নেই বলেও স্থানীয়রা দাবি করেছেন। তারা আরও অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাসান মাহমুদ পলাশের সঙ্গে বন্ধুত্ব এবং ‘মডেল মনিরের’ ঘনিষ্ঠতার পরিচয় ব্যবহার করে টিপু এলাকায় প্রভাব খাটান।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিপ্লবের পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে হামলা, মারধর ও লুটের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
দ্যা প্রেস নিউজ/এফজে
মন্তব্য করুন